পান্থকুঞ্জ পার্কে তৈরি হচ্ছে বর্জ্য স্টেশন
পান্থকুঞ্জ পার্কে তৈরি হচ্ছে বর্জ্য স্টেশন
২০১৫-১১-০৯ ১১:১৭:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্কের গাছ কেটে বর্জ্য স্টেশন ও পাবলিক টয়লেট তৈরি করা হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নেতৃত্বে পার্কে স্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগে হতবাক এলাকাবাসী। পৈতৃক ভিটা অধিগ্রহণ করে গড়ে তোলা সরকারি এই পার্কটির রূপান্তর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। এলাকাবাসী ডিএসসিসির এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।

সরজমিনে ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পান্থকুঞ্জ পার্কের দক্ষিণ পাশে প্লানার্স টাওয়ার সংলগ্ন প্রায় ৫ কাঠা জায়গার গাছ কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে বর্জ্য স্টেশন। এর ফাউন্ডেশন কাজ শেষ হয়েছে। অন্যান্য কার্যক্রম অসম্পন্ন রয়েছে। পার্কের এ অংশের প্রায় ৫০টি গাছ কাটা পড়েছে। এটা নিয়ে ওই এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি ডিএসসিসি। এটা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ডিএসসিসির মামলা চলছে।

সম্প্রতি পার্কের বর্জ্য স্টেশন সংলগ্ন আরও প্রায় ২ কাঠা জায়গা জুড়ে বিশাল আকৃতির একটি পাবলিক টয়লেট গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএসসিসি। গত এক সপ্তাহ ধরে পার্কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। এই পাবলিক টয়লেট তৈরি করতে কমপক্ষে আরও ২০টি গাছ কাটা পড়বে। বর্জ্য স্টেশনের মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে আবার একই পার্কে গাছ কেটে পাবলিক টয়লেট তৈরির কার্যক্রম শুরু করায় ডিএসসিসির ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে কাঁঠাল বাগান ২৯৯ ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, পান্থকুঞ্জ পার্কের জায়গা খুবই কম। ডিএসসিসি এই জায়গায় বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রথমে বর্জ্য স্টেশন তৈরি করতে ৫ কাঁঠা জায়গার গাছ কেটে সাবাড় করেছে। আবার নতুন করে প্রায় ২ কাঠা জমিতে বিশাল আকৃতির পাবলিক টয়লেট তৈরির কাজ শুরু করেছে। এবারও কম হলেও ২০টি গাছ কাটা পড়বে। তিনি বলেন, ডিএসসিসির দায়িত্বই হচ্ছে এই পার্কটিকে রক্ষণাবেক্ষণ করা। ডিএসসিসি পার্কের দর্শনার্থীদের এতই যদি সুবিধা চান, তাহলে ফুটপাতের দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেখানে একাধিক মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা করুক। গাছ ধ্বংস করে বিশালাকৃতির টয়লেট করার কি দরকার? তিনি আরও বলেন, আগেও একবার পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছি। এবার আন্দোলনের কোনো বিকল্প দেখছি না। সময়মতো এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আবারও আন্দোলনে নামব।

বাংলামোটর ময়মনসিং লেনের বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের পৈতৃক ২৫ কাঠা জমি এই পার্ক করতে অধিগ্রহণ করে সরকার। এর বিনিময়ে মাত্র ১০ কাঠার একটি প্লট পেয়েছি, তাও আবার অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়েছে। এত সম্পত্তি হারানোর পরও বাড়ির পাশে একটি পার্ক হওয়াতে আমরা বেশ খুশি ছিলাম।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বলেন, আমি ডিএসসিসিতে যোগদান করেছি অল্প কিছুদিন হল। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানি না। আমি পার্কে সরজিমনে ঘুরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরও বলেন, আর বর্জ্য স্টেশনের ব্যাপারে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে আমরা সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম করব না। আর পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ক্ষেত্রে পার্কের বেশি ক্ষতির ঝুঁকি থাকলে সে ব্যাপারেও আমরা চিন্তা-ভাবনা করব।
(মতিন আব্দুল্লাহ)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর