এবার আসছে পানির এটিএম বুথ!
এবার আসছে পানির এটিএম বুথ!
২০১৬-০৩-০২ ০৩:১৫:০৩
প্রিন্টঅ-অ+


দিনকে দিন তীব্রতর হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে নানা ধরনের পারিবেশিক বিপর্যয়ের কারণে ঘটছে এটি। নানা দেশ এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেও তেমন সুফল পাচ্ছেনা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুপেয় পানি করতে হচ্ছে বিপুল অর্থের বিনিময়ে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে শুরু করে আরো অনেক ভারতীয় দৈনিকে দেখা গেছে, চণ্ডীগড়ের মোহালি, অন্ধ্র, কর্ণাটক এবং আরো বেশ কয়েকটি স্থানে পানি পানের জন্য বসানো হয়েছে বুথ। টাকা ওঠানোর জন্য আমাদের দেশে যেমন ব্যবহার করা হচ্ছে এটিএম বুথ, তেমনি সেখানে অর্থের বিনিময়ে মিলছে পানযোগ্য পানি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে ঢাকা শহরের কথা, যেখানে প্রচণ্ড তৃষ্ণায় ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে এক গ্লাস পানি পান করতে গেলেও ওই ১ টাকাই দিতে হয়। তবে সেটি শতভাগ বিশুদ্ধ কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্যানুযায়ী, পাঞ্জাবের ভূগর্ভস্থ পানি এমনভাবে দূষিত হয়েছে যে, তা আর পান করার উপযোগী নেই। সেখানকার অনেক মানুষ এমন দূষিত পানি পান করে প্রতিদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সেখানকার মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন থেকে শুরু করে আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা প্রতিদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন; যার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে পানি দূষণকেই।

এক্ষেত্রে তুলনা করতে গেলে রাজধানী ঢাকায় দূষিত কিংবা বিশুদ্ধ কোনো ধরনের ভূগর্ভস্থ পানি পাওয়াই এখন দায় হয়ে গেছে। অল্প বর্ষণে সারফেস রানঅফ বেড়ে গিয়ে দ্রুত পানি জমে গেলেও তা মাটির তলদেশে পৌঁছতে পারে না। অন্যদিকে ওপরে প্লাবিত হলেও দিনের পর দিন নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। ফলে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ প্রতিবেদনে পাঞ্জাবের যে অবস্থা উঠে এসেছে, তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়।

ভারতে পানি সংকট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এগিয়ে এসেছেন সিনার্জি সোলার ইঙ্কের ডিরেক্টর রমণদ্বীপ সিং। তিনি বিশেষ ধরনের ওয়াটার ভেন্ডিং মেশিন চালু করেছেন, যেখানে মোহালির পথচারী থেকে শুরু করে সব ধরনের মানুষ প্রতিদিন স্বল্পমূল্যে এক লিটার সুপেয় ঠাণ্ডা পানি পান করতে পারছে। সেখানে নির্দিষ্ট ছিদ্রপথে এক রুপি প্রবেশ করিয়ে বোতল কিংবা অন্য কোনো পাত্রে প্রয়োজনীয় পানযোগ্য পানি সংগ্রহ করছে সবাই। এভাবে সহনীয় মূল্যে পানযোগ্য পানি সরবরাহ করে রমণদ্বীপ সিংয়ের ব্যবসা প্রসার লাভ করার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে স্থাপিত হয়েছে আরো পাঁচটির মতো ওয়াটার এটিএম, যেগুলো গণমানুষের পানির চাহিদা মেটাচ্ছে। এক্ষেত্রে মোহালি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানকার রোজ গার্ডেন, সিলভি পার্ক, বোগেনভিলিয়া গার্ডেন, রক গার্ডেন ও ফোর্টিস হাসপাতালের কাছে স্থাপন করেছেন এমন ওয়াটার এটিএম।

ক্রমাগত দূষণের পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট বাংলাদেশেও প্রবল হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু? নদীদূষণের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। বছর দুয়েক আগে উপকূলের মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করার উপায় উদ্ভাবন করেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিজ্ঞানী। তবে শেষ পর্যন্ত কার্যক্ষেত্রে তার প্রতিফলন তেমন ঘটেনি। এমন নানা উদ্ভাবনী গবেষণা এখনো চলছে। তবে এমন গুরুতর সংকট থেকে উত্তরণে আরো সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষক-পেশাজীবী সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নদী দূষণ যেভাবে বাড়ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সুপেয় পানি মিলবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

পরিবেশ এর অারো খবর