ক্ষমতায়নের নামে আমলাতন্ত্রকে শক্তিশালী করা হচ্ছে
ক্ষমতায়নের নামে আমলাতন্ত্রকে শক্তিশালী করা হচ্ছে
২০১৫-১১-০৫ ১২:৪৭:৫১
প্রিন্টঅ-অ+


উপজেলা পরিষদের ক্ষমতায়নের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সার্কুলার বাতিল, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫র সিলেকসন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল করার দাবিতে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি-র আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সারাদেশে পালিত হয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশ।৮ নভেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছে এই কমিটি।

উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ ও ২০১১ সালের সংশোধন এবং ২০১৫ সালে জারিকৃত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অফিস স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ যে প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী এবং কার্যকর হচ্ছে না তার ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি।

সমন্বয় কমিটি-র লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে উপজেলা পরিষদকে অধিকতর কার্যকর করার নামে পেশাদার ও কারিগরিসহ উন্নয়নমুখী দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও তদরকিসহ সকল ক্ষেত্রে ইউএনও-র অযেৌক্তিক ও অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দেশের দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চরম অবমাননাকর। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যানের তুলনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটা সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করবে। একজন জুনিয়র কর্মকর্তা (ইউএনও) দিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। এ ছাড়া ন্যস্ত কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বিল অন্য বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা দেশের ফিন্যান্সিয়াল রুল পরিপন্থী।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা আদেশ দ্বারা স্থানীয় সরকার কিংবা উপজেলা পরিষদ শক্তিশালী হবে কী না এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে,

এর ফলে উপজেলা পরিষদ শক্তিশালী হবে না শুধুমাত্র আমলাতন্ত্রই শক্তিশালী হবে।

এর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে কর্মকর্তাদের বিদ্যমান সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, কর্মপরিবেশ, টীম স্পিরিট বিঘ্নিত হবে। পরিষদে ক্যাডার ও অন্যদের মধ্যে দুরত্ব এবং অবিশ্বাস তৈরি হবে যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকবে।

প্রশাসন ক্যাডার আপাতঃ লাভবান মনে করলেও প্রকৃত অর্থে তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তাদেরও চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে।

সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং সরকারের ভিশন ২০২১ অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি সম্প্রতি জারিকৃত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অফিস স্মারকটি অবিলম্বে বাতিল এবং উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, উপজেলা পরিষদের কাছে ১৭ দফতর হস্তান্তরের বিষয়ে মন্ত্রীসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে ১৪ অক্টোবর একটি অফিস স্মারক জারি করা হয়। এতে বলা হয়, উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব এবং উন্নয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়নের হিসাব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও-র স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।

এই সার্কুলার জারির পর থেকে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ এবং চিকিৎসকদের সংগঠন- প্রকৃচি, ১৭ ক্যাডার এবং বিসিএস কর্মকর্তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির ব্যানারে নানা কর্মসূচি পালন করছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর