বর্ণমালার মতো
বর্ণমালার মতো
২০১৬-০২-২১ ১৪:১৫:৫০
প্রিন্টঅ-অ+


বর্ণমালার মতো
শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন

আমি তোমাকে বর্ণমালার মত চেয়েছিলাম
কিংবা অবিন্যস্ত বর্ণের সজ্জার মত
যাতে করে ইচ্ছে মত সাজাতে
পারি অক্ষরের পর অক্ষর বিন্যাসে শব্দ নির্মাণ
করতে পারি মনের ছাঁচের ঢালাইয়ে
এবং তারপর হৃদয়ের আনন্দের সূতায় গাঁথতে
পারি ছন্দ আর অলংকার নতুন সাজে।
ফাগুন যেমন পত্রশূন্য বৃক্ষকে
সাজায় পাতা কিংবা ফুলে।
শরতের আকাশ যেমন মেঘকে সাজায় তার সত্তার
নতুন বিন্যাসে; আমিও সেভাবে তোমাকে
নতুন ছন্দের বুনটে সাজাতে
চেয়েছিলাম কবিতার শরীরে বারবার।
দূর থেকে তোমাকে বর্ণের সৌধই
মনে হয়েছিল। কিন্তু কাছে যেতেই ভুল গেল ভেঙ্গে।
দেখলাম তুমি শুধু বর্ণের স্তুপ নও। একজন
দক্ষ কবির প্রেমের কারুকার্যের ছন্দোবদ্ধ
একটি করুণ কবিতা।

তোমাকে আবৃত্তি করা যায় কিন্তু সৃষ্টির
আনন্দ তাতে কতটুকু মেলে কিংবা সৃষ্টিকে
পাওয়া যায় কতটুকু আপনার করে !
শেষে এই আশা ভঙ্গ রিক্ত হৃদয়ে আমি ঘুরে
ফিরি পথ থেকে পথে, রাখালী বাঁশীর
ব্যাথাতুর সুর বুকে নিয়ে , মোহনার অভিমানী ঢেউ
সাথে করে আর পল্লী বধুদের লুকোচাপা কান্না
কণ্ঠে নিয়ে ফিরে এলাম আবার তোমার কাছে।

তুমি তখন একটি জনপ্রিয় কবিতা আমি এক
বিদগ্ধ শিল্পী। তোমাকে আপন করে নেবার
জন্যই তোমাকে দিলাম সুর আমার প্রাণের
বাদ্যের মূর্ছনায়। আর তখনই তুমি একটি
সকরুণ গান হয়ে চলে এলে আমার কণ্ঠে, আমার মর্মে।
কিন্তু ততক্ষণে তুমি শুধু আমার রইলে না
তুমি ছড়িয়ে গেলে রাখালের বাঁশীতে, মোহনার
ঢেউয়ে, আর পল্লী বধুর প্রাণের সুরে।


(শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন-এর এই কবিতাটি ২০০৮ সালের ২১শে বইমেলায় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - "আমি বলেছি আমার সত্তার তোমাকে " থেকে নেওয়া)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিল্প সাহিত্য এর অারো খবর