নিউট্রিনো আলোর চেয়ে বেশি গতিতে ছুটতে পারে!
নিউট্রিনো আলোর চেয়ে বেশি গতিতে ছুটতে পারে!
২০১৬-০২-২১ ১৩:৩৪:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


আলোর চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন নিউট্রিনো কণা। ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সার্নের CERN: Central European organization for Nuclear Research) গবেষকরা এই সংবাদটি প্রকাশ করেন তখন চমকে ওঠেন সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা।

এ চমকের পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। এই আবিষ্কারের ফল সঠিক প্রমাণিত হলে শুধু পদার্থ বিদ্যাই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহু শাখায় বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও এর অতীত-বর্তমান এবং পরিণতিবিষয়ক সব প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা আবার নতুন করে লিখতে হবে। তাই সার্নের বিজ্ঞানীরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে একাধিকবার পরীক্ষা করেও একই ফল পেলেও সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের এই আবিষ্কারের ফল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিজ্ঞানীরা বরং ফল প্রকাশ করে এ বিষয়ে অন্য বিজ্ঞানীদের পরামর্শ চেয়েছেন। সমবেগে গতিশীল বস্তুর গতির বিবরণের মধ্য দিয়ে ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব বা স্পেশাল রিলোর্টভিটি থিওরি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। স্থান ও কাল, বস্তু শক্তিকে এক সূত্রে প্রকাশ করে এবং শূন্যস্থানে আলোর গতিকে গতির সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়ে বলা হয় শূন্য মাধ্যমে আলোর চেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই।

মহাবিশ্বের কোনো বস্তু বা কণার গতি আলোর গতির চেয়ে বেশি হতে পারে না। আলোই হচ্ছে সবচেয়ে গতিসম্পন্ন। আইনস্টাইনের এ তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক পদার্থবিদ্যার কাঠামো ও এর আরো অনেক তত্ত্ব। মহাবিশ্বে গঠন ও কার্যপ্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় ব্যবহƒত তত্ত্বগুলোর অন্যতম হলো আপেক্ষিক তত্ত্ব। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রতিবারই জয় হয়েছে এ তত্ত্বের। কিন্তু সার্নের বিজ্ঞানীদের দৈবাৎ এক আবিষ্কার নিউট্রিনো আলোর চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনার তথ্য প্রকাশ আইনস্টাইনের সেই বহু বিখ্যাত বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। আর বিজ্ঞানীদের চমকে ওঠার কারণ এখানেই। জেনেভার সার্নের গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনো কণা নিয়ে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে ঘটনাক্রমে আলোর চেয়ে বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন এই কণাটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ভুল হয়েছে ভেবে ৬ মাস ধরে বারবার তারা ভুল বের করার চেষ্টা করেন। বারবারই তারা প্রত্যাশা করেছেন পদ্ধতিগত কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।
কিন্তু কোনো ভুল না পেয়ে অবশেষে তারা এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিকারী নিউট্রিনোর গতিসংক্রান্ত আবিষ্কারের ফল প্রকাশের পর সংশয়বাদীদের একটি গ্রুপ ইকারুস নামে আরেক দল বিজ্ঞানী সার্নের একই গবেষণাগারে আবারো নিউট্রোনোর গতি পরীক্ষায় নামেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাইনোস ও জাপানের টি টুকে নামের দু’প্রতিষ্ঠান পৃথক দুটি পরীক্ষা শুরু করে। নিউট্রিনো কণার গতির পরিমাপ নিয়ে সার্নের পরীক্ষার ফল শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞান ইতিহাসের সবচেয়ে মহাভুল বলে বিজ্ঞানীরাই প্রমাণ করেন। সার্নের গবেষণাগার থেকে যে ফল পাওয়া গিয়েছিল তা সঠিক হলে আধুনিক পদার্থবিদ্যার অনেক তথ্য-তত্ত্বই ভ্রান্ত প্রমাণিত হতো। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিদ্যার প্রায় সব প্রশ্নেরই উত্তর দেয়। কিন্তু তখন ওইসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতো। তবে একটি বিষয় বিজ্ঞান নিশ্চিত করে যে, বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্বই অনন্তকাল টিকে থাকে না।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর