নির্দেশনা না মানায় এটিএম বুথে জালিয়াতি!
নির্দেশনা না মানায় এটিএম বুথে জালিয়াতি!
২০১৬-০২-১৬ ০৩:২০:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনা না মানার কারণেই এটিএম বুথের মাধ্যমে অর্থ জালিয়াতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ব্যাংকগুলো ২০১৩ মালের পিএসডি সাকুর্লার নং ০৩/২০১৩ যথাযথভাবে পরিপালন করলে জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।

এদিকে, আগামী এক মাসের মধ্যে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সব এটিএম বুথে এন্টি স্কিমিং ডিভাইস বসানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এন্টি স্কিমিং স্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এখন থেকে এটিএম বুথ নতুনভাবে স্থাপন করতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে এন্টি স্কিমিং এবং পিন শিল্ড ডিভাইস স্থাপন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নিবার্হী পরিচালক সুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগে স্থাপিত বুথগুলোয় এন্টি স্কিমিং এবং পিন শিল্ড ডিভাইস স্থাপন করতে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।

এটিএম ও পস মেশিনে লেনদেন ঝুঁকি হ্রাস ও নিরাপত্তা জোরদার করতে ৫টি নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে বলা হয়েছিল, এটিএম বুথে কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কোনও ধরনের নতুন যন্ত্র স্থাপন বা মেরামত করতে এলে বুথে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ড ব্যাংকের এ বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করবেন। কিন্তু বেসরকারি সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ইউসিবিএলের কোনও সিকিউরিটি গার্ডই ব্যাংকে ফোন দেননি।

যদিও এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর নাম করে জালিয়াত চক্র বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসায় বলে অভিযোগ করেছে জালিয়াতির শিকার ব্যাংকগুলো। আর এ ডিভাইসের মাধ্যমেই চুরি করা হয়েছে গ্রাহকদের সব তথ্য। ওই সার্কুলারে বলা ছিল, প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এটিএম বুথে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ রূপ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের পরিচয় নিশ্চিত করবেন। ২০১৩ সালের ওই সার্কুলারে এটিএম বুথে প্রশিক্ষিত সিকিউরিটি গার্ডকে সার্বক্ষণিক পাহারা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।

এদিকে, রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটিএম বুথে স্থাপিত সিসিটিভির ফুটেজ নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও এন্টি ডিভাইস স্থাপন করা হলে এসব জালিয়াতি প্রতিরোধ করা যেত। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি ৬টি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন এটিএম বুথে সংগঠিত লেনদেনগুলোর ভিডিও ফুটেজ যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তাতে কোনও সন্দেহজনক বিষয় দৃষ্টিগোচর হলে কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি গ্রাহকের কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর কোনওভাবে পাচার হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে অবহিত করে কার্ডটি বাতিল করতে হবে। বিষয়টি অন্য ব্যাংকের হলে সংশ্লিষ্ট কার্ডদাতা ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করে একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করতে হবে। পাশাপাশি ওই ভিডিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্দেশনা আরও বলা হয়েছে, নিয়মিতভাবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ব্যাংক কর্তৃক নিজস্ব এটিএম বুথগুলোকে নিরীক্ষা করে মাসিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। বুথগুলোয় নিয়োজিত গার্ডকে জালিয়াতি প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

এছাড়া, টুপি সানগ্লাস পরিধানকারী এবং ব্যাগ বহনকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গার্ড সর্তক থাকবেন। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বুথ থেকে টাকা উত্তলনের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহককে মোবাইলে এসএমএস এলার্ট দিয়ে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে হবে।

ইবিএল, সিটি ও ইউসিবিল ব্যাংকের ছয়টি এটিএম বুথের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে বের করে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা দেয়।

সম্প্রতি এটিএম বুথে বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর ক্লোন কার্ড বানিয়ে অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গ্রাহকের তথ্য চুরি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রে বিদেশি যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহের কথা পুলিশকে জানিয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও মিলছে বিদেশি চক্রের সম্পৃক্ততা। বুথে স্থাপিত গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও চিত্র থেকে এই সব তথ্য মিলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এসব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

এদিকে, ইস্টার্ন (ইবিএল), সিটি ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) রাজধানীতে স্থাপিত ছয়টি বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে দুই শতাধিক গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের নামে ৯০ লাখের বেশি কার্ড রয়েছে, যার মধ্যে ৮৫ লাখই ডেবিট কার্ড। দেশজুড়ে প্রায় সাত হাজার এটিএম বুথের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সেবা দিচ্ছে। এছাড়া, এসব কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটাও করা যাচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর