পিডিবির চহিদা মতো গ্যাস দিতে অপারগ পেট্রোবাংলা
পিডিবির চহিদা মতো গ্যাস দিতে অপারগ পেট্রোবাংলা
২০১৬-০২-১৫ ০২:১৮:৫২
প্রিন্টঅ-অ+


সেচ মৌসুমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কিন্তু তাদের চহিদা মতো পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে অপরাগতা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। ফলে চলতি সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পেট্রোবাংলা এ মত দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনে সিএনজি স্টেশন এবং সার কারখানা বন্ধ রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বলেছে মন্ত্রণালয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, এবার সেচ মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াট। এজন্য দৈনিক ১২৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস চায় পিডিবি।

কিন্তু পেট্রোবাংলা জানায়, তাদের পক্ষে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক ৯১ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটের বেশি গ্যাস দেয়া সম্ভব নয়। এরপর পিডিবির পক্ষ থেকে বলা হয় ৩০ কোটি ২০০ লাখ ঘনফুট গ্যাস কম পেলে সেচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হবে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, যে করেই হোক অতীতের মতো সেচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। প্রয়োজনে সারকারখানা বন্ধ এবং সিএনজিতে গ্যাস রেশনিং বাড়াতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেন।

ডিসেম্বর থেকে সেচ মৌসুম শুরু হলেও মার্চ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত সেচে বিদ্যুৎ চাহিদা বেশি থাকে। একই সময়ে গ্রীষ্ম মৌসুম থাকায় বিদ্যুতের চাহিদাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।

বৈঠক সূত্র বলছে, গত বছর বা তার আগের বছরগুলোতেও গ্রীষ্ম মৌসুমে শহরাঞ্চলে সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। সরকার সারাদেশে স্বাভাবিক সরবরাহের কথা বললেও গ্রামে চাহিদা এবং সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতি ছিল। এই অবস্থায় পেট্রোবাংলা পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না দিতে পারলে গ্রীষ্মে লোডশেডিং বাড়বে।

এদিকে সেচ মৌসুমে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে জ্বালানি বিভাগ একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম খুলেছে। যার কার্যক্রম গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এটি ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এসব কন্ট্রোল রুম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কন্ট্রোল রুম, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও তেলের ডিপোগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। সংগৃহিত তথ্য ইমেইলের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি উপদেষ্টা ও জ্বালানি সচিবকে সরবরাহ করবে।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকার পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিশেষ করে জ্বালানি তেলের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে একক জ্বালানি হিসেবে ডিজেলের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ৩২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। তবে উত্তরাঞ্চলের জন্য ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত ডিজেলের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। বিপিসি জনিয়েছে, কৃষিকাজে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ায় এই খাতে ডিজেলের চাহিদা কমেছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর