ভালোবাসার উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে
ভালোবাসার উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে
২০১৬-০২-১৪ ১৩:২১:১৫
প্রিন্টঅ-অ+


আমরা সবাই কম-বেশি ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করি। এদিন সারা পৃথিবীর মানুষ প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানের চেষ্টা করেন। বিভিন্ন ভাবে দিনটিকে স্মরণীয় করতে চান। উন্নত কিংবা অনুন্নত, কোনো দেশই পিছিয়ে নেই, সবাই এই দিনে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে একটু আলাদাভাবে কাটাতে চায়।

এ উপলক্ষে বিশ্বের দেশে দেশে নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী সব আয়োজন। দিবসটিকে ঘিরে একেক দেশের মানুষের প্রস্তুতিও একেক রকম। রীতি-নীতির মধ্যেও আছে পার্থক্য। এই দিনকে কেন্দ্র করে অনেক আগে থেকেই দেশে দেশে চালু আছে বিভিন্ন ধরনের লোককথা। ইতিহাস ঐতিহ্যেরও কমতি নেই।

ব্রিটেন: চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ শতাব্দীতে ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’-এর জন্ম ব্রিটেনে। তাই ব্রিটেনের উল্লাস একটু বেশিই থাকার কথা। ব্রিটেনে এই দিনটি ব্যাপক আগ্রহ, উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। অন্যান্য দেশের মতো কার্ড, ই-মেইল ও উপহার সামগ্রীর মাধ্যমে প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করলেও ব্রিটিশদের মধ্যে ফুল আদান প্রদানের ঝোঁকটা একটু বেশি দেখা যায়। ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’কে ঘিরে পদ্য লেখাটাও ব্রিটেনের ঐতিহ্যের অংশ।

যুক্তরাষ্ট্র: উনিশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ অধিবাসী প্রথম উত্তর আমেরিকায় ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র ধারণা নিয়ে আসে। ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ ছড়িয়ে যায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রে।বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে গিফট কার্ড আদান-প্রদানের রীতি আসে।সে সময় কার্ড এবং গোলাপ ছিল ভ্যালেন্টাইনের মূল উপহার। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ডায়মন্ড কোম্পানিগুলো ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ পালন শুরু করে। সেই থেকে জুয়েলারি চলে আসে প্রচলিত উপহারের তালিকায়। ‘ভালোবাসা’ সবচেয়ে আদিম আবেগ হলেও ভালোবাসা দিবসটিকে চরম বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে মার্কিন মুল্লুকে। দেখা গেছে, ভালোবাসা দিবসে সবচেয়ে বেশি কার্ড ও উপহার বিক্রি হয় এই দেশে।

জাপান: ভালোবাসা দিবসটি যেন শুধু নারীদের জন্য। প্রতি বছর এ দিনটিতে দেশটির নারীরা কাছের মানুষকে নানা ধরনের চকোলেট উপহার দেন। কে কী ধরনের চকোলেট উপহার দেবেন, সেটা নির্ভর করে পরস্পরের সম্পর্কের ওপর। ‘গ্রি-চকো’ নামের চকোলেট দেয়া হয় অফিসের কর্তাব্যক্তি ও সহকর্মীদের। অন্যদিকে ‘হনমেই চকো’ নামের চকোলেট শুধু পুরুষ সঙ্গী বা স্বামীকে দেয়া হয়। জাপানি নারীরা প্রেমিক বা স্বামীকে যে চকোলেট দেন, সেগুলো কষ্ট করে নিজেরা তৈরি করেন। এ সময় পুরুষরা সাধারণত কোনো ধরনের উপহার দেন না। ভালোবাসা দিবসের ঠিক এক মাস পর জাপানি পুরুষদের জন্য আসে ‘হোয়াইট ডে’। এ দিনে তারা প্রিয় নারীকে ভালোবাসা দিবসে দেয়া উপহারের প্রতিদান দেন।

অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ায় ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ এখন একটি বিশাল উৎসব। দিন দিন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সের তরুণ-তরুণীর প্রায় ৯০ ভাগেরও বেশি এবং ৫০-এরও বেশি বয়সীদের প্রায় ৪৫ ভাগের ভ্যালেন্টাইন উদযাপনের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। অস্ট্রেলিয়ানরা এই দিনকে দেখে থাকে পরিবার, বন্ধুবর্গ, সহকর্মী এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও বেশি মজবুত করার দিন হিসেবে।

ইতালি: ইতালিতে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বসন্ত উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এক সময় খোলা আকাশের নিচে নানা ধরনের অনুষ্ঠান হত। যুবক-যুবতীরা গান, আবৃত্তি শুনত। এরপর ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বাগানে ঘুরে বেড়াত তারা। কিন্তু কয়েক শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে দেশটিতে। এখন ইতালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মত ছুটির দিন থাকে। অনেকটা ‘হ্যালোইন’ আর ‘মাদারস ডে’র মতো। উপহারের তালিকায় থাকে চকোলেট, পারফিউম, গোলাপ আর ডায়মন্ড।

কানাডা: কানাডায় ভালোবাসার বিশেষ দিনটি বেশ উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। সারা দেশে বল ড্যান্স এবং পার্টি থাকে। এদিন প্রিয়জন-প্রিয়জনকে জানায় ভালোবাসার কথা। গোলাপের প্রাধান্য এখানে বেশি। এরপর চকোলেট, কার্ড, ক্যান্ডি তো আছেই। শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে কার্ড বিনিময় করে। নিজের হাতে উপহার বানিয়ে শিক্ষক এবং বাবা-মাকে দেয়। দিনটিকে উদযাপন করতে স্কুলের সিনিয়র সেকশনে থাকে ড্যান্স পার্টি।

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টাইনরা শুধুমাত্র ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘটা করে উদযাপন করেন না। তারা জুলাই মাসে পুরো এক সপ্তাহজুড়ে উদযাপন করেন ‘সুইটনেট উইক’।যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকারা চুমুর বিনিময়ে মিষ্টি আদান-প্রদান করেন।

বুলগেরিয়া: ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ বুলগেরিয়ানরা সেন্ট ট্রাইফর জারেজান ডে উদযাপন করেন। এটি আঙুর উৎপাদনকারী ও ওয়াইন প্রস্তুতকারকদের ছুটির দিন। এ দিনটি প্রেমিক-প্রেমিকারা সুস্বাদু ওয়াইন নিয়ে উদযাপন করেন।

ফ্রান্স: ফেব্রুয়ারির ১২ থেকে ১৪ তারিখ বাড়িগুলো সাজানো হয় গোলাপ ফুলে, গাছে লাগানো হয় লাভ নোট, এ সময়টিতে অনেকেই বিয়ের প্রস্তাব দেন ও পান। অনেকেই নিজের ভালোবাসার প্রমাণস্বরূপ গাছ লাগান।

ফিলিপাইন: ভ্যালেন্টাইনস ডে’র দিনে ফিলিপাইনে বিয়ের ধুম পড়ে। এদিন একসঙ্গে একশ’ বা এক হাজার দম্পতি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। সরকার পাবলিক সার্ভিস হিসেবে এ বিয়ের আয়োজন করে।

রোমানিয়া: রোমানিয়াতে ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি। এ দিনটি তাদের কাছে দ্য বার্ডস অ্যান্ড থর্নড ডে নামে পরিচিত। ভ্যালেন্টাইনস ডে ও বসন্ত উৎসবের সম্মিলিত রূপ এ দিনটি। এদিন কপত-কপতিরা বনে গিয়ে ফুল তোলেন। সুখ ও সুস্বাস্থ্যের প্রত্যাশায় তুষার দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন তারা।

ব্রাজিল: ব্রাজিলে ভালোবাসা দিবসের নাম ‘দিয়া নামোরাডোস’। এটি ১২ জুন। সেন্ট অ্যান্থনি’স ডে নামেও পরিচিত এ দিনটি। এ দিনে অবিবাহিত নারীরা নিজেদের দ্রুত বিয়ের জন্য কিছু আচার পালন করেন, যার নাম সিম্প্যাটিয়াস।

দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ বুঝি একটু বেশিমাত্রায় রোমান্টিক। তারা প্রতি মাসের ১৪ তারিখ ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেন। এর মধ্যে মে মাসের রোজ ডে, জুনের কিস ডে, ডিসেম্বরের হাগ ডে আর এপ্রিলের ব্ল্যাক ডে তো রয়েছেই।

ঘানা: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কোকো উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি হচ্ছে ঘানা। ২০০৭ সাল থেকে ঘানা ১৪ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় চকোলেট দিবস হিসেবে উদযাপর করে আসছে। এদিন সারাদেশে বিশেষ চকলেটের মেন্যু প্রস্তুত করা হয় এবং প্রদর্শন করা হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফিচার এর অারো খবর