বইমেলায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নানা আয়োজন
বইমেলায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নানা আয়োজন
২০১৬-০২-০৯ ২৩:৩৮:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলা একাডেমির আয়োজনে চলছে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬। মেলায় বই বিকিকিনির পাশাপাশি রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নানা আয়োজন।

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমিজুড়ে চলমান মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুনত্ব যোগ না হলেও প্রকাশনায় ই-বুকের চল বেড়েছে। ই-বই ছাড়া বইমেলায় উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো প্রযুক্তিসুবিধা বা প্রযুক্তির ব্যবহার নেই। তবে এ বছর বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইটটি হালনাগাদ করে এতে যুক্ত করা হয়েছে মেলার জন্য স্বতন্ত্র লিংকwww.banglaacademy. org.bd/ GronthoMela। বইমেলার সব বই ঘরে বসে কেনার সুবিধা দিচ্ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রকমারি www.rokomari.com

বিকিকিনিতে প্রযুক্তি : বরাবরের মতো এবারও বই মেলায় বিকাশ ও কার্ড পাঞ্চ সুবিধা রেখেছে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনাগুলো। মেলা প্রাঙ্গণে বুথ স্থাপনের পাশাপাশি দোকানগুলোয় ব্যবহার করা হচ্ছে পজ মেশিন। আর বিকিকিনির হিসাব রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশেষায়িত সফটওয়্যার।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বই
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন জীবনে চলার পথে। অমর একুশে বইমেলায় সবাই বই কিনছেন, পড়ছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বাদ পড়বেন কেন? তারাও এবার বইমেলায় বই কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের জন্য এই সুযোগ সৃষ্টি করেছে স্পর্শ। মেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বেশ কয়েকটি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্পর্শ। ২০১১ সাল থেকে বইমেলায় ব্রেইল পদ্ধতিতে বই প্রকাশ করে আসছে স্পর্শ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সাল থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বই প্রকাশে আন্দোলন করে আসছে। এদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতীয় লেখকদের রচিত বাংলা ভাষার বিভিন্ন ধরনের বই পাঠ উপযোগী করে তা প্রকাশ হচ্ছে জ্ঞানবিকাশ.কম www.gyanbikash.com]-এ। ফ্রিল্যান্সারদের প্ল্যাটফর্ম আপওয়ার্কের সহায়তায় এ ওয়েবটি ডেভেলপ করেছেন শৈশবেই টাইফয়েড জ্বরে দৃষ্টিশক্তি হারানো আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। তার তৈরি এই ওয়েবে অন্তর্ভুক্ত বইগুলো পড়তে প্রয়োজন নেই ই-ব্রেইল। রয়েছে অডিও বই এবং কম্পিউটার ই-বুক। ফলে এই ওয়েবে প্রবেশ করে মুঠোফোন, পিসি বা ট্যাব থেকে পছন্দের বইয়ের পাঠ শুনতে পারবেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। জীবনী, রম্য, মুক্তিযুদ্ধ, গল্প-উপন্যাস ছাড়াও শিশুদের জন্য দারুণ সব কবিতার বই রয়েছে সাইটটিতে। বিষয়ভিত্তিক সুবিন্যস্তভাবে সাজানো ওয়েবসাইটটিতে রয়েছে ইতিহাস, কবিতা, হরর, গণিত, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান ও ইসলামী বই। আপতত এখানে রয়েছে অর্ধশতাধিক বই। মেলায় প্রকাশিত জনপ্রিয় লেখকদের বই এখন পর্যায়ক্রমে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

ই-বই : বহুমাত্রিক ই-বই অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে উন্মোচিত হয়েছে। মেলায় নতুন নতুন বইয়ের ই-সংস্করণ প্রকাশ করছে বেঙ্গল ই-বই [http://banglar-eboi.com]]। মেলা থেকে ভিসা, মাস্টার কার্ড ও বিকাশের মাধ্যমে পিডিএফ, ইপাব ও মোবি সংস্করণের ডিজিটাল বই সংগ্রহ করতে পারছেন পাঠক। কালজয়ী উপন্যাসের ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করেছে চড়ুই.কম www.chorui.com/catalog। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প থেকে প্রকাশ করা হয়েছে ই-লার্নিং নিয়ে বাংলা ভাষায় প্রথম বই ই-লার্নিং : উন্মুক্ত এবং বিভাজিত শিখন পরিবেশ। বইটি লিখেছেন আধুনিক ই-লার্নিংয়ের পথিকৃৎ ড. বদরুল হুদা খান। বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় রচিত বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম ও গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলোকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নিয়ে আসার প্রয়াসে প্রকাশিত হয়েছে দেশের প্রথম ইলেকট্রনিক বুক একুশ ই-বুক। বদলে যাওয়া সময়ে বই পড়ার আগ্রহ আরও বাড়াতে পৃথিবীময় ছড়িয়ে থাকা বাঙালি সাহিত্যানুরাগীদের কাছে সহজে বাংলা সাহিত্য পেঁৗছে দিতে বিজ্ঞাপনী সংস্থা মাত্রার সহযোগিতায় মোবাইল ফোন কোম্পানি ওকে মোবাইল বের করেছে এই ই-বুক। একুশ ই-বুক মূলত ওকে মোবাইলের একুশে ট্যাবের একটি অংশ। একুশ ই-বুকের স্বাদ নিতে হলে পাঠককে কিনতে হবে ওকে একুশে ট্যাব। যাতে অন্যান্য বিনোদনমূলক অ্যাপের পাশে থাকবে এই একুশ ই-বুক। পাঠক এর মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার করে বিশ্বের যে কোনো বই কিনতে পারবে। মেলায় প্রকাশিত প্রতিদিনের বইয়ের তালিকাসহ বেশকিছু বইয়ের ই-সংস্করণ প্রকাশ করছে http://ebookgalery.com।

অ্যাপ : চলমান অমর একুশে বইমেলায় বাংলালিংক গ্রাহকদের মধ্যে ই-বুক রিডার বাংলালিংক বই ঘর ইবি সলিউশন লিমিটেড। এই ই-বুক রিডারের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ডিভাইসে পাতা উল্টে উল্টে বই পড়ার স্বাদ নিতে পারছেন অগ্রসর পাঠকরা। আর এ সুবিধা নিতে প্রতিটি ই-বুকের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫-২০ টাকা করে চার্জ করা হচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ২৫০টি ই-বই বিনামূল্যে পরিবেশন করছে সেই বই [https://play.google.com/store/apps/details?id= raven.reader]। জনপ্রিয় থ্রিলার রাকিব হাসানের নরবলি, পাগলা ঘণ্টা, যাও এখান থেকে এবং বিষধর বইটির ছাপ সংস্করণ ৪৮০ টাকা এবং ডিজিটাল সংস্করণ ১২০ টাকায় বিক্রি করছে এ প্রকাশনাটি।

মুুক্তপাঠ : শিখুন... যখন যেখানে ইচ্ছে স্লোগানে উন্মুক্ত হয়েছে ওয়েবভিত্তিক ই-লার্নিং সেবা মুক্তপাঠ [www.muktopaath.gov.bd]। এখান থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী তো বটেই, আগ্রহী যে কেউ অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। সাধারণ, কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও জীবনব্যাপী শিক্ষাবিষয়ক কোর্স কৃষকদের শস্য উৎপাদনের জন্য ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার নিয়ে ৭০টি ভিডিও রয়েছে এতে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রস্তুতির বিষয়টিও বাদ যায়নি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের উদ্যোগে তৈরি এই ওয়েবে। ১ ফেব্রুয়ারি ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পিপীলিকা : চলমান বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের তালিকা প্রকাশ করছে বাংলায় ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার বাংলাদেশি ওয়েবসাইট (সার্চ ইঞ্জিন) পিপীলিকায় www.pipilika.com। একই সঙ্গে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা বানান নিয়ে তৈরি গেম শব্দকল্পদ্রুম ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। ভাষার মাসে এতে যুক্ত নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে সাম্প্রতিক সংবাদ, পিপীলিকা লাইব্রেরি, পিপীলিকা কেনাকাটা, পিপীলিকা জব সার্চ, বাংলা বানান সংশোধনী ও শব্দকল্পদ্রুম ফিচার। সব কয়টি ফিচারই এখন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ হিসেবেও গুগল প্লে-স্টোরে রয়েছে।

এটুআই : ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে আসছে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন [এটুআই] প্রোগ্রাম। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলা একাডেমি অংশে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন [এটুআই] প্রকল্পের উদ্যোগে নজরুল মঞ্চের পাশে কম্পিউটার কিয়স্ক বসানো হয়েছে। নজরুল মঞ্চ এলাকায় তারহীন ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সুবিধাও দিচ্ছে এটুআই। ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রের কিয়স্ক থেকে স্টল, বিভিন্ন লেখকদের প্রকাশিত বইয়ের নামসহ তালিকা ব্যবহারকারী নিজেই খুঁজে নিতে পারেন মেলায় আসা বইপ্রেমীরা। পাশাপাশি এখান থেকেই ডিজিটাল কিয়স্ক থেকে জাতীয় তথ্য বাতায়ন [http://bangladesh.gov.bd, সেবাকুঞ্জ [http://www. services.portal.gov.bd] এবং শিক্ষক বাতায়ন [https:// www.teachers. gov.bd] সম্পর্কে দর্শনার্থীদের জানা-শোনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

বিজয় শিশু শিক্ষা : মেলা প্রাঙ্গণের ৬২৫ নম্বর স্টলে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল শিশুদের কলরব। সেখানে উপস্থাপিত হচ্ছে ডিজিটাল স্লেট। স্পর্শ পর্দার এ ট্যাবটিতে রয়েছে শিশুদের অ্যানিমেটেড বর্ণপরিচয়, ছড়া ইত্যাদি। সফটওয়্যারের দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ডিজিটাল পাঠ্য বাংলা, ইংরেজি ও গণিত এবং স্কুলে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য বিজয় শিশু শিক্ষা ১ ও ২।

মেলার নিরাপত্তায় প্রযুক্তি
দুর্বৃত্তদের হাতে ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার ঘটনায় এ বছর বইমেলার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন এবং আগত দর্শনার্থীদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা দেহ তল্লাশি ও হ্যান্ড ব্যাগ চেক করা হচ্ছে। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে, টিএসসি এলাকা ও আশপাশ এলাকায় অধিকতর নিরাপত্তার লক্ষ্যে দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত সিসিটিভিগুলো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে রয়েছে সিসিটিভি মনিটরিং সেল। নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা প্রাঙ্গণ বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্যে নয়টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
(ইমদাদুল হক)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর