অসুস্থ হলে দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নেবেন শেখ হাসিনা
অসুস্থ হলে দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নেবেন শেখ হাসিনা
২০১৬-০২-০৫ ২৩:২১:২৪
প্রিন্টঅ-অ+


মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুল্পেুছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে নিজের নাম নিবন্ধন ও ফি দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুরের তেতুইবাড়িতে অবস্থিত হাসপাতালটিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গিয়ে এমন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেছেন, আমি কখনও অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনারা আমাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে নিয়ে যাবেন না। দেশেই যেন আমার চিকিৎসা হয়।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সকাল ৮টায় গণভবন থেকে বের হন। হাসপাতালটিতে পৌঁছার পর নিজেই কাউন্টারে নিজের নাম নিবন্ধন করান। নির্ধারিত ফিও পরিশোধ করেন। এরপর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়।

এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত প্রধানমন্ত্রীর নাক, কান ও গলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা করেন। চোখ পরীক্ষা করেন অধ্যাপক ডা. দ্বীন মো. নুরুল হক। এ ছাড়া ডা. ওয়াজিহা আক্তার জাহান, ডা. বনজবা ও ডা. শাহানা ফেরদৌসও এ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রতিটি রোগীকে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও উপস্থিত সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসুস্থ হলে এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নেবেন তিনি।

হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ শ্রমিক। তাদের চিকিৎসার কষ্ট ও ব্যয় লাঘব করা এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। এ ছাড়া এ এলাকায় উন্নতমানের হাসপাতালের সংখ্যাও কম। সেই চিন্তা থেকেই এখানে এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হাসপাতাল ফান্ডে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট্রের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে আমরা কোনো লাভ নিতে চাই না। ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য আরও যে ১০ কোটি টাকার ফান্ড দেওয়া হবে, সেখান থেকে যে টাকা আসবে তা দিয়ে গরিব ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এখানে ৩০ শতাংশ গরিব রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। তিনি চিকিৎকদের কনসালট্যান্সি ফি কমানোরও পরামর্শ দেন।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসার মান বজায় রাখার আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে এখানে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎকের আরও প্রয়োজন রয়েছে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের অনেক ভালো চিকিৎসক ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। তাদের এখানে যুক্ত করা যেতে পারে।

হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ফার্মেসির জন্য নির্ধারিত জায়গায় সুপরিসর ও অত্যাধুনিক ফার্মেসি চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ স্বাস্থ্য পরীক্ষাকালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান এবং অন্য সদস্যরাসহ ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। এর আগে হাসপাতালে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়তুন সোলায়মান ও পরিচালক আরিফ মাহমুদ।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ডা. হাবিব এ মিল্লাত এমপি, ডা. এনামুর রহমান এমপি, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য বায়েজিদ খুরশিদ রিয়াজ প্রমুখ।

২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কেপিজে ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে। এর নামকরণ হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে। হাসপাতাল ছাড়াও এখানে একটি নার্সিং কলেজও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাসহ দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকরা এ হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর